রমজানে বিক্রি বেড়েছে আতর-টুপির

121
আতর-টুপির দোকান

একেক টুপির একেক রকমের ডিজাইন। কোনটা লাল, কোনটা নীল। কোনটা আবার দুটো রঙের সংমিশ্রণে। তবে সব ধরনের টুপির মধ্যেই সাদা রঙের প্রাধান্যটাই বেশি। আছে নতুনত্বের ছোঁয়াও। বাহারি রঙের কাপড় ও সুতার ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন টুপিতে। কোনোটা হাতে নকশা করা, কোনোটা প্রিন্ট করা, কোনোটা আবার একেবারে সাদামাটা।

এসব টুপির আবার আছে বিভিন্ন নামও। ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে আছে আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান ও চীনের টুপি। আরও রয়েছে পাকিস্তানের পাথরি, কাটা, সিন্ধি, হাজি ও রোমিথ টুপি। আর এসব টুপি পাওয়া যাবে ২শ’ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। তবে টুপির বাজার ঘুরে দেখা দেখা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে গোল ও কিস্তি টুপির চাহিদাই সবথেকে বেশি।

শনিবার (১৯ মে) রমজানের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। রোজা শুরু হতে না হতেই ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন ঘরানার টুপি দিয়ে। তবে চাহিদাও যে একেবারে কম তা নয়। হাতের কাজ করা গোল টুপি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
ফুটপাতের সাধারণ টুপির দাম আছে সবার নাগালেই। এগুলোর দাম ১০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের বাহারি রঙের টুপি পাওয়া যাচ্ছে ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়।
বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের টুপি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি ঈদের সময়। তবে রোজার প্রথম দিকেও বিক্রি বেশ ভালো হয়। ক্রেতাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে তাদের পছন্দমতো বাহারি টুপিগুলোই এবার রাখা হয়েছে দোকানে।
রমজানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় বেশিরভাগ সময়ই ইবাদত বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকেন মুসুল্লিরা। সে সুবাদেই চাহিদা বাড়ে নতুন টুপি, আতর, সুরমা, তসবিহ, জায়নামাজ, মেসওয়াক ও ধর্মীয় বইপুস্তকের। 
জায়নামাজ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের ভেতরে। ইসলাম স্টোরের স্বত্বাধিকারী আতিকুল ইসলাম জানান, জায়নামাজের ক্ষেত্রে সুতির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দামি জায়নামাজ খুব বেশি বিক্রি হয় না।
এদিকে সারাবছর আতরের তেমন চাহিদা না থাকলেও রমজান ও ঈদের সময় এটি বিক্রি বেশি হয় বলে জানালেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের আতর বিক্রেতা মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে রমজানের সময় দেশি-বিদেশি আতর দোকানে রাখার চেষ্টা করি। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, দুবাই, ভারত ও ফ্রান্সের আতর পাওয়া যাচ্ছে চাহিদা মতো। বেশিরভাগ দোকানে আতর বিক্রি হচ্ছে তোলা হিসাবে।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভিন্নতার ক্ষেত্রে আতরের দামেও কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। সুগন্ধি আতরের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস, জেসমিন, রোজ ও দিলরুবা বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৫শ’, রেড রোজের তোলা ১৫০০-১৭০০, এরাবিয়ান বেলি ১২০০-১৪০০, মর্নিং কুইন ১৮০০-২০০০, আসওয়াদ ১১০০-১৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাইলাতি ও মমতাজ ১৩০০-১৫০০, দরবার, এনজেল ও জমজম আতর বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। ভারতের বেলি ৫শ’-৭শ’, ব্লু লেডি, ব্লু ফোরম্যান ৬শ’-৮শ’, কুলম্যান ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আতরের মধ্যে হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, বেলি ও নাইট ফ্লাওয়ার বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।
বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, মুরব্বিরা মেসওয়াক, সুরমা ও তসবিহ কিনছেন। জৈতন ও নিমের মেসওয়াক বিক্রি হচ্ছে ১০-৪০ টাকায়।
মেসওয়াক বিক্রেতা ফেরদৌস বলেন, মেসওয়াক ব্যবহার করা নবীর সুন্নত। তাই ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা এসব পণ্য কিনছেন।
রাজধানীর বড় বড় মসজিদ, মাদ্রাসা, মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিংমলগুলোর সামনের ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে টুপি, জায়নামাজ, আতর, সুরমা ও তসবিহ। এ বেচাকেনা চলবে ঈদের নামাজের আগ মূহূর্ত পর্যন্ত।