রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখুন: ওআইসির প্রতি আবদুল হামিদ

305

মিয়ানমারের রাখাইনে বৈষম্য, নিপীড়ন এবং পরিকল্পিত নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ।

গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের (সিএফএম) সম্মানে দেয়া ভোজসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনস্রোতের ভয়ানক চাপের মুখোমুখি। মিয়ানমারে যা ঘটেছে, তা কেবল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিরই লঙ্ঘন নয়, বরং জাতিগত নিধনের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইনের অধীনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার হরণ করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ হরণ করা হয়েছে। তারা তাদের নিজ দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতির অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

তিনি বলেন, সংঘাত ও ইসলামফোবিয়ায় আমাদের বিশ্ব চ্যালেঞ্জের মুখে। মুসলমানরা যেন ইসলামফোবিয়া বা জাতিগত নিধনের শিকার না হয় সে বিষয়ে ওআইসিকে একটি স্থিতিশীল বিশ্বের জন্য লক্ষ্য স্থির করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ওআইসি সদস্যদের শুধু সংহতি নয়, জোরালো ভূমিকাও পালন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন আবদুল হামিদ।

নৈশ ভোজে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল ওথাইমিনসহ অনেকে।

‘বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার’

এর আগে বিকেলে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্র আদেল আল জুবায়েরের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সর্বদা জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করে আসছে। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বাংলাদেশ সৌদি সরকারের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত চমৎকার’ উল্লেখ করে আব্দুল হামিদ বলেন, বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য সকল ক্যাটাগরিতে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার জন্য তিনি সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি দু’টি ভ্রাতৃপ্রতীম মুসলিম দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আগামী দিনগুলোতে সৌদি সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

আদেল আল জুবায়ের রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহয়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে তার দেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান।