কোটা সংস্কারের দাবিতে আজও রাজপথে শিক্ষার্থীরা, উত্তাল দেশ

142

কোটা সংস্কারের দাবিতে বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে চবির শাটল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ক্লাস ও পরীক্ষাও বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রেলস্টেশন ও নগরীর ষোলশহরে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ষোলশহর রেলস্টেশনের মাস্টার সাহাব উদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার শাটল ট্রেন যাওয়ার পর সেটি আর ফিরে আসেনি। আন্দোলনকারীরা আটকে দিয়েছে। তাই সকাল পৌনে ১০টা ও সাড়ে ১০টার শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে ছেড়ে যেতে পারছে না।

সিলেটে সড়ক অবরোধ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সংহতি
সিলেট সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সরকারি সব চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের ন্যায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটও। বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে এসে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। কোটা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি বিক্ষোভে তারা মতিয়া চৌধুরীর শাস্তি চেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটেরও। এদিকে, আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। তিনি দাবিটি যৌক্তিক উল্লেখ করে তা সংস্কারের দাবি জানান। চৌহাট্টা পয়েন্টে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তিনি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। চৌহাট্টা পয়েন্টে কোতোয়ালি মডেল থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) গোলাম দস্তগীরের নেতৃত্বে একদল পুলিশকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা তাদেরও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অন্যদিকে সকাল থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে সব ধরনের ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

ইবি শিক্ষার্থীদের খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা জানান, খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টায় তারা প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের পাশেই অবস্থান করছে পুলিশ।

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছেন, ‘পুলিশ হামলা করলে পরিস্থিতি বেসামাল হবে। প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে সহযোগিতা না করে পুলিশ দিয়ে হামলা করালে ক্যাম্পাস প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।’
দুই মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, সুফিয়া হলের ছাত্রীর পা কেটে দেওয়ার বিচার দাবি এবং কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট পদক্ষেপসহ বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একইসাথে দেশব্যাপী পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক কোটা সংস্কার প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে মিছিল থেকে। তারা মহাসড়কে শুয়ে, বসে ও দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীরা আন্দোলনকারীদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সকল বাধা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেই শিক্ষার্থীরা পুলিশ প্রশাসন ঠেলে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই অবরোধ চলছে। এই মুহূর্তে পুলিশ ক্যাম্পাসসংলগ্ন কুষ্টিয়া মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। অপরদিকে ছাত্রলীগ ঝিনাইদহ রোডের পাশে তাদের অবস্থান নিয়েছে।

জাবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধaricha
জাবি সংবাদদাতা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারসহ চার দফা দাবিতে ফের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, জাবি শাখা’ এর ডাকে বুধবার সকালে অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এতে মহাসড়কের দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
জাবি আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবিগুলো হল- সোমবারের অবরোধে জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিচার, মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ছাত্রলীগ নেত্রী কর্তৃক নির্যাতনের বিচার করা।