হযরত ফাতেমা (রাযি.) এর প্রতি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কঠোর বাণী

353

জাহিদুল ইসলাম ছালেহ্: প্রিয় মা-বোনেরা, বলুনতো !  হযরত ফাতেমা রাযি. -এর ন্যায় মর্যাদাশীল মহিলা আর কে হতে পারে ?  সরদারে দো-জাঁহা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অতি আদরের কন্যা কি তিনি ছিলেন না ? তিনি কি সকল জান্নাতবাসীনীদের নেতৃত্ব দিবেন না ?  হযরত আলী রাযি.- যার লকব ছিল ‘শেরে খোদা’, নবীর মহব্বতে নিজ প্রাণ উৎসর্গ কারী, অতি পরহেজগার মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলিফা ছিলেন । হযরত ফাতেমা রাযি. ছিলেন তাঁরই আদরের স্ত্রী । সেই হযরত ফাতেমা রাযি. হযরত আলী অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে মনে কিভাবে তাঁর পা আঁকড়ে ধরে চোখের পানিতে তাঁর পায়ের পাতা ভিজিয়েছেন ? সে ঘটনারই অবতারণা নিম্নে করা হল ।
একদিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী সফর থেকে ফিরার পথে ফাতেমা রাযি. -এর বাড়িতে যান । ফাতেমা রাযি. যখন নিরবে বসে কি যেন ভাবছিলেন এবং চোখের পানি বহাচ্ছিলেন । হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দৃশ্য দেখে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে, ফাতেমা রাযি. বলেন,  আব্বাজান ! আজ আমার বাড়ীতে একটি ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে আমার এ অবস্থা ।  আমি গৃহকর্মে লিপ্ত ছিলাম, এমন সময় আপনার জামাতা, আমার প্রাণের স্বামি হযরত আলী রাযি. কর্মক্ষেত্র হতে ফিরে এসে ঘরের দরজায় আমাকে সালাম করে পানি পান করতে চাইলেন । কাজ সেরে পানি নিয়ে গিয়ে তাকে আর দরজায় পেলামনা । বহু অপেক্ষা ও খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাইনি । আমার পানি নিয়ে যেতে দেরী হওয়ায় তিনি কি আমার উপর রাগ বা অভিমান করে চলে গেলেন ? এই চিন্তায় অধির হয়ে আমি কাঁদছি । আমার কান্নার আর কোন কারণ নেই ।
ঘটনা শুনে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফাতেমা ! কতবড় সর্বনাস হয়েছে তা কি বুঝেছ ? স্বামী অসন্তুষ্ট হওয়া মানেই আল্লাহ্ পাক অসন্তুষ্ট হওয়া  ।  আমি আর তোমার মুখ দেখতে চাইনা ।  আমি যাওয়ার অাগে বলে যাচ্ছি, আলী ঘরে এলে কাঅর কাছে মাফ চেয়ে তাকে আগে রাজি করে নেবে । এর পূর্বে তোমার যদি মউত হয়, তবে আমি কিন্তু তোমার জানাযা পড়বনা !  (নাঊযুবিল্লাহ্)
প্রাণপ্রিয় মা-বোনেরা ! এবার কি বুঝতে পারলেন, স্বামীকে অসন্তুষ্ট করার কি গজব এবং ক্ষতি ?  আসমান-জমিন সবকিছু এমনকি ফেরেস্তারা পর্যন্ত ঐ নারীর জন্য বদ দোয়া ও লা’নত করতে থাকে ।
হযরত আলী রাযি. বাড়িতে আসার সাথে সাথে হযরত ফাতেমা রাযি. গিয়ে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে অঝোর নয়নে কাঁদতে থাকেন এবং বলতে থাকেন, পানি আনতে দেরী করেছিবলে আমাকে দয়া করে ক্ষমা করুণ । অন্যথায় আব্বাজানতো আমার জানাযা পড়বেনইনা, আর আমার জাহান্নামে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা ।
হযরত আলী রাযি. বলেন, আমি তোমার কোন অন্যায় পাইনি ।  তুমি আমার পা ছেড়ে দাও, বরং আমি তোমার আদর-যত্ন ও খাওয়া-পরা ঠিকমত দিতে পারিণা বলে আল্লাহ্ র কাছে জবাবদিহির সম্মুখীন হই কি-না এ চিন্তায় দিন-রাত করে থাকি ।
(মুলত: হযরত আলী রাযি. অন্য এক কারণে চলে গিয়ে ছিলেন)
তাই বলি, মা-বোনেরা ! এখনও সময় আছে,  এখনও ফিরে আসুন । স্বামীকে জ্বালাতন করা বন্ধ করুণ ।  স্বামীসহ মাওলাকে রাজি খুশি করে কবরে যাওয়ার চেষ্টা করুণ ।  আপনার এ দেহ, এ রূপ-লাবণ্য ও যাবতীয় অহংকার সবই একদিন বিলিন হয়ে যাবে ।  তখন একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া ও আপনার স্বামীর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা ।
হাদীস: হযরত উম্মে সালমা রাযি. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ বর্ণনা করেণ, যে মহিলা এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট,  সে জান্নাতে যাবে ।  (তিরমিযী-১/২১৯)
হাদীস: হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেণ যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, রমযান মাসে রোযা রাখবে, স্বীয় লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে এবং নিজ স্বামীর কথামত চলবে, সেই মহিলাকে বলা হবে, তুমি যে দরজা দ্বারা প্রবেশ করতে চাও, বেহেশতে প্রবেশ কর ।  (কানযুল উম্মাল-১৬/৪০৮)