মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল এবং ইসলাম

523
abdullah srabon

আব্দুল্লাহ্ শ্রাবণ: আমি সারাজীবন যেটা করব সেটার ফলাফল আমারই ভোগ করতে হবে। আমি নিজেও জানি এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালাও জানেন আমি জীবনে করেছি আর কি করছি। অবশ্যই মৃত্যুর পর এগুলোর জন্য আমার আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে; মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা একটা ছোট গল্পের বই আমি পড়েছিলাম আর দিপু নাম্বার-২ মুভিটা দেখেছিলাম দুইটাই সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখা ছিল। দুটুই ভালো লেগেছিল। উনার আর কোন বই আমি পড়িনি কখনো। আমি উনার সম্পর্কে সমাজ, মানুষের মুখে ও ইন্টানেটে যতটুকু শুনেছি ও পড়েছি উনি উনার অনেক বইয়ের মধ্যে নাকি ইসলাম বিদ্বেষী কিছু লিখেছেন যদিও আমি কখনো পড়িনি উনার ওই সব বই তবে ভূতের বাচ্চা সোলায়মান নামের একটা বই ২০১৭ সালে বাজারে প্রকাশ করেছেন এবং তার কভার টার মধ্যে খাঁচার ভিতর কোন প্রাণির মত কিছু একটা দেখতে ও একজন ব্যক্তি পাঞ্জাবী পড়া ও মাথায় পাগড়ি জাতীয় কিছু একটা বাধা। বিপরিত দিকে ফিরে দাত বের করে হাসছে এটার দ্বারা উনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা উনি নিজেও জানেন এবং অন্যান্ন মানুষও বুঝতে পেরেছেন, তবে উনি একজন মুসলিম হয়ে এমনটা কেনো করেছে বড্ড জানতে ইচ্ছে করে, বাকি মুসলমান উনার কি ক্ষতি করেছে বা সুলায়মান (আঃ) কি ক্ষতি করেছে জানতে ইচ্ছে করে।তবে হুমায়ুন আহম্মেদের অনেক বই আমি পড়েছি সব গুলোতেই কিছুটা ইসলামকে বি্করিত ভাবে উপস্থাপন করেছে, উনাকে আমি তেমন কোন কিছু বলতে চাচ্ছি না। উনিও মুসলিম ছিলেন এবং আমি মুসলিম। এমনটা কেনো কেন করেছিলেন উনি জানেন আর আল্লাহ তায়ালা জানেন।যদিও উনার কিছু বইয়ের মধ্যে আল্লাহ ভীতি আমি পেয়েছিলেন। যাই বলেছেন পুরোটাই কল্পকাহিনীতে বলেছেন।আমার মাতৃভুমি্ নেত্রকোণা উনাদের মাতৃভুমি্ নেত্রকোণা।লেখক ও দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন বা করছেন তা হিসেবে উনাদের অনেক শ্রদ্ধা করি।মুসলমান হিসাবে ইসলাম বা দ্বীনের তেমন কিছু করেছে কি না খুজে বের করা দুস্কর হয়ে যাবে। তবে হুমায়ুন আহম্মেদের শেষ জীবনে নবীজী (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে এক বই লেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং কিছুটা লিখেছিলেন। একটি আর্টীকেলে এটার বিষয়ে পড়েছিলাম।তবে তা সম্পন্ন করার পূর্বেই মহান আল্লাতায়ালার ডাক এসে গিয়েছিল।জাফর স্যার এর ব্যপারে তেমন কিছু জানি তবে লেখক হিসেবে তিনি যেমনি হোক তবে একজন মুসলিম হিসেবে তিনি বার বার মুসলিমদের বিরোদ্ধে উনার ভাবমূর্তি প্রকাশ করেছেন। যতটুকু উনি ইসলামের বিরোদ্ধেতা করেছেন ইনশা আল্লাহ আল্লাহতায়ালা কাল হাশরের ময়দানে তার হিসাব নিবেন ও শাস্তি দিবেন এবং ইসলামের জন্য উনি কিছু করে থাকেন তাহার ফলাফল মহান আল্লাতায়ালা দিবেন ইনশা আল্লাহ।কিছুদিন পর পর উনাকে মারার জন্য বিচিত্র ধরনের মানুষ বের হয়। আমি এতে সন্দেহ পুশন করি যে এটা কি লোক দেখানো না সত্ত্যিকার অর্থে এমনটা হয়।এটাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ তুলপার “যেমন উনার অন্ধ বক্তরা ও আমাদের কিছু সল্প জ্ঞানী মুসলিম ভাই উনাকে তর্ক বিতর্ক করেছে”। যারা উনাকে মারতে চেয়েছিলেন তারা এটা মনে হয় ভুল করা ছাড়া অন্য কিছুই নই। বরং এরকম সময়ে ইসলামকে মানুষের কাছে উগ্র করে তুলে ধরা। যদি বিষয় এমন হত যে বাংলাদেশ ইসলামি শাষন জারি আছে কেউ ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করলে সেটার শাস্তি সরকারী ভাবে করা হবে, হোক সেটা জাফর ইকবাল বা প্রধানমন্ত্রী। সেটা ইসলামি সংবিধান অনুযায়ী হবে। কিন্তু বোকারা বুঝতে পারছে এদেশে তো ইসলামি শাষন ও সংবিধান কোনটাই নেই বরং নাম মাত্রই ইমলামিক দেশ। এখন এসব করা মানে ইসলামকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া ব্যতিত আর কিছুই নই। জাফর ইকবালের বক্তৃতায় মুসলিম তারা কি বুঝতে পারছে না এটা ভুল কি না সঠিক করেছেন উনি। উনাকে সম্মানের এমন উর্ধে নিয়ে গেছেন যে ওখান থেকে নামানুটা কল্পনাতিত হয়ে গেছে। আমি তাদের নিয়ে তারা মহান আল্লাতায়ালার কাছে কি জবাব দিবে মৃত্যুর পর। দুনিয়াতে সামান্য ভাল ভাবমূর্তি দেখানোর জন্য এমনটা করছে। ইনশা আল্লাহ এর হিসেব আল্লাহ কঠোর ভাবেই নিবেন। সব শেষে এটাই বলব যে, মুসলিম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন কারো হিসাব নেওয়ার জন্য নয়। হিসাব নেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহতায়ালা। দোয়া করুন যাতে সমস্ত দুনিয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা শান্তি দান করুক এবং আপনাকে আমাকে ঐ সকল মানুষদের কে মহান আল্লাহতায়ালা সিরাতুল মুত্তাকিম দান করুক। আমিন।।