ভালবাসা দিবস : কেন বর্জন করব?

264

যে কোনো দিবসকে আমরা গ্রহণ করব না বর্জন করব, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রধানত দুটো বিষয় বিবেচনা করা উচিৎ ।
এক• দিবসটার সাথে ধর্মীয় কোনো চেতনা জড়িত কিনা । থাকলে তা ইসলামের বিরুদ্ধে নাকি পক্ষে। পক্ষে হলে তার প্রমাণ রাসূল স. বা তাঁর সাহাবীদের থেকে আছে কিনা ।
দুই• দিবসটি পালনে ইসলাম বিরোধী কিছু হচ্ছে কিনা । হলে সেটা কোন পর্যায়ের ।

ভালবাসা দিবস গ্রহণ-বর্জন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেও বিষয় দুটি বিবেচনায় আনা যেতে পারে ।
প্রথম বিষয়: দিবসটির সাথে ধর্মীয় চেতনা জড়িত কিনা ? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা দেখি, দিবসটি জনৈক খ্রীস্টান সাধুর স্মরণে পালন করা হয় । যার ব্যাপারে কথিত আছে যে, তিনি কারাবন্দী অবস্থায় একটি মেয়েকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করায় তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে হত্যা করেন । সেই থেকে তাকে স্মরণ করে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করা হয় ।
যদিও পরবর্তীতে এতে নষ্টামি যোগ হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার এই দিনটি পালন নিষিদ্ধ করে । পরে আবার অনেকটা করপোরেট জায়গা থেকেই বলা যায় দিনটি পুনরায় জনপ্রিয়তা ফিরে পায় । বর্তমানে দিনটিকে কেন্দ্র করে চলে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ।
(সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)

দ্বিতীয় বিষয়: দিবসটি পালনে ইসলাম বিরোধী কিছু হয় কিনা । আমরা জানি বর্তমানে দিবসটিকে কেন্দ্র করে যেসব বিষয় চলে, তার কোনোটিই ইসলাম সমর্থন করে না ।
ভালবাসা আদান-প্রদানের নামে তরুণ-তরুণীর সাক্ষাত, সম্মিলন, কথোপকথন, কনসার্ট, মদ্যপান এমনকি অবৈধ সংস্পর্শ – কী হয় না দিনটিকে কেন্দ্র করে । এ দিনটিতে অনেকে তাদের অবৈধ প্রেম নিবেদন করে । অনেকে অবৈধ উপায়ে নিজের সতীত্ব নষ্ট করার জন্য দিনটি নির্ধারণ করে । এছাড়া উন্নত ক্লাবগুলোতে আরো কী চলে, তা না-ইবা বলা হলো ।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না । নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ ।” (আল-ইসরা: ৩২)
ব্যভিচারের কাছে যাওয়ার অর্থ কাজটির ভূমিকায় যা কিছু হয় সবকিছু । কথা বলা, সাক্ষাৎ, সম্মিলন, কনসার্ট, নাচানাচি, গান সবই চলে আসবে। আল্লাহ এই সবগুলোই নিষেধ করেছেন । আর আল্লাহর নিষেধ মানে হারাম । কবীরা গুনাহ ।

অবহেলা করে এগুলোতে অংশগ্রহণ করা ঈমান নষ্টের কারণ হতে পারে । তাওহীদের পরিপন্থী তো বটেই । আল্লাহকে এক ইলাহ হিসেবে স্বীকার করে নেয়ার অর্থ তাঁকেই একমাত্র বিধানদাতা হিসেবে স্বীকার করে নেয়া । এবং তাঁর যে কোনো বিধান বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়া ।
কেউ যদি বিষয়টিকে অবহেলা করে তাহলে তা কুফরী হবে । তেমনি কেউ এতে অংশ না নিলে যদি তাকে ঠাট্টার কেন্দ্রবিন্দু বানানো হয়, তাহলেও তা কুফরী হবে । কেউ এসবে অংশ নিলে, তাকে সমর্থন করাটাও কুফরী হবে । একজন মুসলিম নিশ্চয় কুফরী পছন্দ করতে পারে না ।

এমনিতে দিবসটির পেছনে যে ভালবাসার বাণী রয়েছে, তাতে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই । বরং ইসলামের পুরো সিস্টেমটাই ভালবাসা ও দয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত । সে ভালবাসা এক দিনের নয়, নয় এক বছরের । সে ভালবাসা সারা জীবনের, ক্বিয়ামত পর্যন্ত ।

আল্লাহ আমাদের এসব জায়গায় সুবিবেচনাপ্রসূত­ সিদ্ধান্ত নেয়ার তাওফীক দিন । আমীন ।

_মাসিক আদর্শ নারী থেকে সংগৃহীত