শরিকদের বাধায় ঝুলে গেলো বিএনপি জোটে মুফতি ইজহারের যোগদান

334
শরিকদের বাধায় ঝুলে গেলো বিএনপি জোটে মুফতি ইজহারের যোগদান

শরিকদের বাধায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে নেজামে ইসলাম পার্টির যোগ দেওয়ার বিষয়টি ঝুলে গেছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে বাধা দেন জোটের অন্যান্য শরিকরা। তাই মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর জোটে যোগদানের বিষয়টি শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতার বাধার মুখে পড়ে। পরে আর এ নিয়ে আলোচনা এগোয়নি।

এদিকে রবিবার রাতে বিএনপি-জোটে যোগ দিতে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীকে। রাতে সাড় ১০টার দিকে বেরিয়ে আসেন তিনি। মুফতি ইজহার বলেন, ‘আমাকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা হবে।’

বিএনপি মহাসচিব জোটের বৈঠক শুরু করার পরই শরিকদের সমালোচনা চলতে থাকে। পরে বৈঠকের মাঝপথে বেরিয়ে এসে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাসের কক্ষে অপেক্ষমাণ মুফতি ইজহারকে ‘পরে আলোচনা হবে’ বলে বিদায় জানান মির্জা ফখরুল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে নেজামে ইসলাম পার্টির ২০ জোটে যোগদানের বিরোধিতা করেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক। তিনি মুফতি ইজহারের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ও তার মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল এজেন্ডা হিসেবে নেজামে ইসলাম পার্টির জোটে যোগদানের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরোধিতা করেন ইসহাক। তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বৈঠকে বলেন, ‘ম্যাডাম জোটে কাকে নেবেন বা নেবেন না এটা আপনার ব্যাপার। তবে নেজামে ইসলাম পার্টির অনেক সমস্যা রয়েছে।’ এ সময় মাওলানা ইসহাকের সঙ্গে সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রতিনিধি মাওলানা মহিউদ্দীন ইকরামও মুফতি ইজহারের জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে বিরোধিতা দেখান।

জানা যায়, শুরুতে মুফতি ইজহারের বিষয়ে বিরোধিতায় সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারাই তো ম্যাডামকে বলেছেন যে, তাকে নিতে হবে।’

এক্ষেত্রে লক্ষণীয়— গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই নেজামে ইসলাম পার্টিকে জোটে আনতে উদ্যোগ নেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও জোটের আরেক শরিক মাওলানা অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব। জানা গেছে, মাওলানা ইসহাকের তীব্র বাধার পর তারা দু’জনই মুফতি ইজহারের বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেননি। এ কারণে অন্য শরিকদের বক্তব্যের আগেই বিষয়টি চাপা পড়ে। শরিকদের একজন নেতার ভাষ্য, ‘মুফতি ইজহারের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

বৈঠক থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাওলানা ইসহাক তো মন্ত্রী ছিলেন, তিনি কোন দলের মন্ত্রী ছিলেন পাকিস্তান আমলে?’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাওলানা ইসহাক বলেন, ‘বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে মহাসচিব ব্রিফ করবেন। এরপর আপনারা জানতে পারবেন।’

এর আগে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে নতুন শরিক দল হিসেবে যোগ দিতে জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। ওই বৈঠকের বিষয়ে রবিবার রাতে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি। দলটির প্রচার সচিব দ্বীনে আলম হারুনী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়েছে।

নেজামে ইসলাম পার্টি একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এর একটি অংশ মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বে আছে ইসলামী ঐক্যজোটে। তিনি (নেজামী) দলটির ওই অংশের চেয়ারম্যান। মুফতি ইজহার চার দলীয় জোটের সময় ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যতম নেতা ছিলেন। পরে ইসলামী ঐক্যজোট ভেঙে গেলে তিনিও ঐক্যজোটের একটি অংশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে দাবি করতেন।

রবিবার রাতে গুলশানে অনুষ্ঠিত বিএনপি জোটের বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গাণি, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান।

এছাড়াও ছিলেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মর্তুজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, পিপলস লিগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জমিয়তে উলামা ইসলামের মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি। জোটের আগের বৈঠকটি হয় গত ৮ জানুয়ারি।-বাংলা ট্রিবিউন