কাল থেকে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে ৩ দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল

428

নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জাতি মানুষকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্যে। আর এর মাঝেই মানব-জাতির প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি। ইসলামি শরীয়ত, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও পীর-মাশায়েখের তরীকা অনুসারে মানবজীবন গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চট্টগ্রাম জেলার উদ্দ্যোগে আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ (বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার) চট্টগ্রাম রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে ৩ দিনব্যাপী ইজতেমায়ী ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরুষ ও মহিলা শ্রোতাদের জন্য যথাক্রমে প্রায় ৯০ হাজার ও ৭০ হাজার বর্গফুটের সুবিশাল প্যান্ডেলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও কঠোর নিরাপত্তা ও পর্দাসহকারে মা-বোনদের জন্য ওয়াজ শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে দারুল উলুম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস উস্তাযুল উলামা শায়খ মুনীরুল ইসলাম, (দা. বা.) ও আমীরুল মুজাহিদীন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রধান মুফতী ও মুহাদ্দিস আল্লামা শাহ আহমদুল্লাহ, জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা শায়খ আহমদ, নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন চরমোনাইয়ের মরহুম পীর সাহেবের সুযোগ্য সাহেবজাদা আল্লামা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল-মাদানী, আল্লামা হাবীবুর রহমান কাসেমী, আল্লামা শাহ তাজুল ইসলাম ও ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ তাশরীফ আনবেন।

মাহফিলে চরমোনাই সিলসিলার মহান মুরশেদ, পীরে কামেল, আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)সহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শীর্ষ স্থানীয় পীর-মাশায়েখ, ইসলামি চিন্তাবিদ-বুদ্ধিজীবীবর্গ শরীয়ত ও মা’রিফতের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও নসীহত পেশ করবেন ইনশাআল্লাহ। চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলের ঐতিহ্য অনুসারে ২৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) যোহরের পর পীর সাহেব হুজুরের উদ্বোধনী মধ্য দিয়ে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর (রবিবার) ফজরের নামাযের পর বয়ান ও আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। মাহফিলে প্রথম দিন শরীয়ত, দ্বিতীয় দিন মা’রিফত ও তৃতীয় দিন ইসলামি আর্দশের নানা দিক নিয়ে ওলামায়ে কেরাম বয়ান পেশ করবেন ইনশাআল্লাহ। উদ্বোধীন বয়ান, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলা এবং আখেরি মুনাজাতপূর্ব বয়ানসহ পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই মোট ৭টি বয়ান পেশ করবেন।

আজ (বুধবার) সকাল ১১ ঘটিকায় মাহফিলস্থলে মাহফিলের এক প্রস্তুতিসভা চট্টগ্রাম জেলা মুজাহিদ কমিটির সদর হাফেজ মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উক্ত দীনী মাহফিলকে সফল ও সার্থক করে তোলার জন্য সহযোগিতায় প্রিয় চট্টগ্রামবাসী, মিডিয়া, সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। মাহফিলে আগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘মাহফিলের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার্থে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত, প্রচার ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া মাহফিলে যত্রতত্র ছবি তোলা, সেলফি ও ভিডিও এবং ফেসবুকে নিমগ্ন থাকা থেকে বিরত থেকে মাহফিলে ওয়াজ শোনতে মনোযোগী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার প্রয়াসী হতে হবে। মাহফিলে অংশগ্রহণে আগ্রহী মা-বোনদেরকে অবশ্যই মাহরম পুরুষ এবং খাস পর্দাসহকারে মাহফিলে আসার জন্য অনুরোধ জানান নেতৃবৃন্দ।

এক নজরে মাহফিলের কার্যক্রম
• পীর সাহেব হুজুরের বয়ান: প্রত্যেহ ফজর ও এশার নামাযের পর হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই বয়ান পেশ করবেন।
• শ্রমিক সমাবেশ: ২৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার), সকাল ৯ ঘটিকায়, মাহফিলের ময়দানে, প্রধান অতিথি: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।
• ওলামা-মাশায়েখ ও সুধী সমাবেশ: ২৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার), জুমার নামাযের পর, মাহফিলের ময়দানে, প্রধান অতিথি: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।
• ছাত্র গণজমায়েত: ৩০ ডিসেম্বর (শনিবার), সকাল ৯ ঘকিটায় মাহফিলের ময়দানে, প্রধান অতিথি: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।
• আখেরি মুনাজাত: ৩১ ডিসেম্বর (রোববার), ফজরের নামাযের পর বয়ান ও আখেরি মুনাজাত, পরিচালনা করবেন: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।