ময়মনসিংহে সেচ্ছাশ্রমে চলছে ইজতেমার প্রস্তুতি কাজ

368
ময়মনসিংহে সেচ্ছাশ্রমে চলছে ইজতেমার প্রস্তুতি কাজ

ময়মনসিংহ থেকে সদরুল আমিন সাকিব: দীনের দাওয়াত নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একনিষ্ঠ অনুসারীগণ। এরই সূত্রে প্রত্যেক যুগেই জগতের মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হাজারো মুসলিম বেরিয়েছেন আপন ঘর-বাড়ি ও পরিবার-পরিজন ছেড়ে। সে ধারায়ই যুগবরেণ্য আলেম মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলবি (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ নামক দাওয়াতি মহল আজ বিশ্ব জুরে ঈমানের দাওয়াত নিয়ে মুসলিমদেরকে বোধোদয়ের আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও বঞ্চিত হয়নি তাদের পদচিহ্ন থেকে। মসজিদগুলো থেকে হাজারো মানুষ জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যায় আজ এ অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে আল্লাহর দীন শিখতে এবং শিক্ষা দিতে।

তাবলিগ কর্তৃক আয়োজিত জনপ্রিয় জনসমাগম বিশ্ব-ইজতিমা, যা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার টঙ্গি শহরে। সারাবিশ্ব থেকে আগত লোকে লোকারণ্য এ জনসমাবেশ দেখে চোখ জুড়িয়ে নেয় মুমিন-অন্তরগুলো। সম্প্রতি বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত এই ইজতিমাকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে দু’টো ভাগে বিভক্ত করে নেয়া হয়েছে। সারাদেশের জেলাগুলোর অর্ধাংশ কেন্দ্রিয় ইজতিমায় শরিক হন টঙ্গির বিশাল ময়দানে। কিন্তু শৃঙ্খলা-বিধানে বদ্ধমূল শরিক হতে না পারা জেলার মানুষগুলোর এই অপ্রাপ্তিতে যেন হাহাকার করে ওঠে বুক। তাই সেই শূন্যতার প্রলেপ হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পদ্ধতি, নিজ জেলা নিয়েই ইজতিমার আয়োজন করছেন তারা আর মুমিন-সমাগমের সেই ধারাকে স্মৃতিতে জাগরিত রাখছেন অন্তরে। ময়মনসিংহ জেলার মানুষজনও পিছিয়ে নেই এতে। আগামী ২১ হতে ২৩ ডিসেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার হতে নিবার পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে ইজতিমার সময়। চলছে তুমুল আয়োজন। নিজের জান এবং সম্পদ ব্যয় করে এই সম্মেলনকে সফল করতে বদ্ধপরিকর মুসলিমগণ, মাশা’আল্লাহ। ময়মনসিংহ জেলার চৌদ্দটি থানা নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই ইজতিমা। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ সদর, গফরগাও (দু’ভাগ), ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, ফুলপুর, তারাকান্দা, ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গৌরীপুর। ময়মনসিংহস্থ আকুয়া বাইপাস মোড় সংলগ্ন তাবলিগের জেলাকেন্দ্রিয় মারকাজ মসজিদের আঙিনা হতে শুরু হয়ে দৈর্ঘে ফুলবাড়িয়া রোডের পাশ ঘেঁষে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ময়মনসিংহ সেনানিবাসকে রাস্তার বিপরীত পার্শ্বে রেখে প্রায় গন্দ্রপা মোড় পর্যন্ত এবং প্রশস্ততায় বিস্তৃত ফসলের মাঠে চলছে ইজতিমার প্রস্তুতি। লাখো মানুষের দিন-রাত্রিযাপন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজনাদি সারার বন্দোবস্তে ব্যস্ত এ বিশাল ময়দান। এর মধ্যে রয়েছে থাকার জন্য বাসের খুটি দ্বারা কোঠা নির্মাণ, অস্থায়ী ওয়াশরুম, অজুর জন্য পানির ট্যাংকিস্থাপন ইত্যাদি। নিরাপত্তার দিক দিয়েও অনেকটা আশ্বস্ত, কেননা বাইপাস মোড়ের পাশেই রয়েছে র‍্যাবের দফতর আর ময়দানের রাস্তা পেরুলেই পড়ছে সেনাক্যাম্প।

ইজতিমার ব্যবস্থাপনাকর্মে যোগ দিচ্ছেন হাজারো মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে প্রস্তুত হয়ে। ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ সকল শ্রেণীর মানুষই থাকছেন এতে। আশপাশের মাদরাসাগুলোও পিছিয়ে নেই। সানন্দে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দল বেঁধে এসে যোগ দিচ্ছেন এই ইমানজাগানিয়া মাহফিলের আয়োজনে। মাঠের ব্যবেস্থাপনায় দায়িত্বশীল থাকছেন প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে। এক গ্রুপ কাজ শেষ করে বের হচ্ছে তো উদ্যমতার সঙ্গে যোগ দিচ্ছে অন্য এক গ্রুপ, দায়িত্বশীল প্রয়োজনীয় কর্মের প্রতি দিকনির্দেশ দিচ্ছেন আর উৎফুল্লচিত্তে শরিক হয়ে যাচ্ছেন সকলে সেই কাজে। এভাবেই এগিয়ে চলছে প্রস্তুতি গত কয়েকদিন ধরে। আমরা আল্লাহর নিকট এর সুষ্ঠ সফলতা কামনা করি।