মুফতি আমিনী রহ. এই শুন্যতা কী পুরণ হবে?

370

রাজনীতি করতে হলে বুকের পাটা লাগে। সবাই রাজনীতি করতে পারে না। রাজনীতি করতে হলে ঝুকি নেওয়ার সাহস থাকতে হয়। সবাই সাহসী হতে পারে না। রাজনীতি করতে হলে হুঙ্কার দেওয়া শিখতে হয়। কিন্তু সবাই সেটা পারে না। রাজনীতির কুশীলব হওয়া যতটা সহজ প্রকাশ্যে রাজনীতিবিদ হওয়া ততটা সহজ না। রাজনীতি করতে হলে যতটা ত্যাগ-কোরবানীর করার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন সেটা অনেকের হয় না। ফলে তিনি আর সফল রাজনীতিবিদও হতে পারেন না। এই সবগুলো গুণই ছিল একজন আলেম রাজনীতিবিদের মধ্যে। তিনি আমাদের সাহসী রাজনীতির উপমা। বাবরী মসজিদ লংমার্চ থেকে শুরু করে আইন বাস্তবায়ন কমিটি, ঐক্যজোট সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি অনুভুত হতো। তাঁর দরাজ কণ্ঠের হুঙ্কার অনেকের গলা শুকিয়ে দিতো। ভয়ে আতঙ্কিত হতো। যার কথা বলছি, তিনি আমাদের সকলের পরিচিত, মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ. তিনি আর কেউ নন।

একদিকে তিনি ছিলেন রাজনীতির গুরু, সাহসী রাজনীতির প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে তিনি ছিলেন একজন আবেদ, একজন মুত্তাকী, একজন পরহেযগার আল্লাহওয়ালা। তিনি দুনিয়ার কাউকে খুব পরোয়া করতেন বলে মনে হয় না। তিনি অতসব ভেবে চিন্তে প্রোগ্রাম দিতেন না। প্রয়োজন মনে করলে একাই ডাক দিয়ে বসতেন। পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে চলে আসতো। ইসলামী রাজনীতির অঙ্গনে এই ডাক দেওয়া মানুষের খুব অভাব তাঁর অনুপস্থিতিতে অনুভূত হচ্ছে।
তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য ছিল চরম বেদনার, হতাশার। এই শুন্যস্থান কি পুরণ হবে?

লেখক: সৈয়দ শামছুল হুদা, আলেম, লেখক, গবেষক।