আল্লামা মোস্তফা আল হোসাইনী রহ.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পর্ব-১

894

কুরআনের ভাষ্যকার
আল্লামা মোস্তফা আল হোসাইনী রহ.

লেখক; মুফতি আব্দুর রহমান গিলমান
জন্ম ও প্রাথমিক শিক্ষা :
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দীনকে দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা এবং প্রচার-প্রসারের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন। নবী-রাসুল আগমনের এই ধারা সমাপ্ত হয় রাসুলে কারীম হজরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সা.-এর মাধ্যমে। তাঁর পরে আর কোন নবী রাসুল দুনিয়ায় আগমন করবেন না। রাসুল সা.-এর পরে কিয়ামত পর্যন্ত দীনের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে নবীগণের ওয়ারিস উলামায়ে কিরামের ওপর। আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে এমন কিছু উলামায়ে কিরাম তৈরি করেছেন- যারা হকের আওয়াজকে সমুন্নত রাখতে এবং বাতিলকে প্রতিহত করতে আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। দীনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অবিস্মরণীয়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দীন, আল্লামা মোস্তফা আল হোসাইনী রহ. তাঁদের অন্যতম একজন। দীনের বহুমুখী খেদমতে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। তিনি একাধারে যোগ্য শাইখুল হাদিস, মুহাক্কিক আলেম, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন, সংগ্রামী সাধক ও ক্ষুরধার লেখক ছিলেন। তাঁর নামের শুরুতে “আল্লামা” শব্দটি নামের মতোই যুক্ত হয়ে গেছে। “আল্লামা” ব্যতীত তাঁর নামটি অপূর্ণই মনে হয়। আর বাস্তবিকই তিনি “আল্লামা” বা “মহাজ্ঞানী” ছিলেন।
ক্ষণজন্মা এই মহাপুরুষ ১৯৪৬ সালের ১ মার্চের এক শুভক্ষণে লাকসাম থানাধীন খিলা বড়বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মুন্সি সুলতান আহমদ একজন আলেম ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার এক মাদরাসায় অধ্যাপনার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয় এবং সেখানেই তিনি সমাহিত হন। বাবার ইন্তেকালের পর তিনি নানার বাড়িতেই লালিত-পালিত হন। পরবর্তীতে দক্ষিণ ফেনুয়া ভূঞাবাড়িতে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
বাবার ইন্তেকালের পর আল্লামা হোসাইনী নানীর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে কৃতিত্বের সাথে দাখিল সমাপ্ত করেন। ঐ বৎসর দাখিলে কৃতিত্বের জন্য তিনি স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে আলিম, ১৯৬৩ সালে পাটোয়ার মাদরাসা থেকে ফাজিল সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে নোয়াখালী ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে কামিল সমাপ্ত করেন।
চলবে, ইনশাআল্লাহ্…