সব ধারার মিডিয়াতে আলেমদের যুক্ত হওয়া উচিত : আলী হাসান তৈয়ব

766

মাওলানা আলী হাসান তৈয়বের আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আবহাস এডুকেশনাল এন্ড রিসার্স ফাউন্ডেশনে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্ম জীবনের সূচনা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুভাষী দাওয়াতি সাইট ইসলাম হাউজ ডট কমে সাত বছর ধরে কর্মরত আছেন। এছাড়া সহসম্পাদক হিসেবে যুক্ত আছেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে। পাশাপাশি আন-নূর জামে মসজিদ টঙ্গীর খতিব ও মাদরাসা আবু রাফে (রা.) টঙ্গীর মুহতামিম তিনি। এছাড়াও মোহাম্মদপুরস্থ মারকায যায়দ বিন ছাবিত ও আবদুল্লাহপুরস্থ এরাবিক মডেল মাদরাসায় আরবি থেকে অনুবাদ ও বাংলা ভাষা বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আলী হাসান। তার পিতার নাম তৈয়ব আলী এবং মাতার নাম আলেয়া বেগম।

আপনি মিডিয়াতে কাজ করেন কেনো?

আলী হাসান তৈয়ব : আলেমরা নবীদের ওয়ারিশ। নবীরা ছিলেন মহান আল্লাহর মিডিয়া। মিডিয়া মানে মাধ্যম। আল্লাহ নবীদের মাধ্যমে মানুষকে নিজের বার্তা পাঠিয়েছেন। শেষ নবীর পর তাঁর ওয়ারিশ তথা আলেমরা হলেন আল্লাহর নবীদের মিডিয়া। আলেমরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। এটাই তাদের দায়িত্ব। তাই আলেম হয়েও মিডিয়ায় কেনো এ প্রশ্নটাই উঠবে না বরং প্রশ্ন হবে আলেম হয়েও মিডিয়ায় নয় কেন?

বর্তমানে বিভিন্ন মিডিয়াতে আলেমরা কাজ করছেন, তাদের বর্তমান অবস্থানকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আলী হাসান তৈয়ব : আলহামদুলিল্লাহ। বর্তমানে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় আলেমরা কাজ করছেন এটা সুখের সংবাদ। তবে বর্তমানে তাদের অধিকাংশই মূলত একটি নির্দিষ্ট বিভাগ বা পাতার দায়িত্ব পালন করছেন। মূলধারার সাংবাদিকতায় এখনও আলেমদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো নয়। আমি মনে করি রিপোর্টিং, সম্পাদনা বিভাগসহ সাংবাদিকতার মূলধারার সব বিভাগে কাজ করার টার্গেট ও প্রত্যয় নিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য করে তোলা উচিত।চেষ্টা করা উচিত সব বিভাগে যুক্ত হতে। এককথায় বললে এভাবে বলবো- সব ধারার মিডিয়াতে আলেমদের যুক্ত হতে হবে।

সম্মাননা নিচ্ছেন আলী হাসান তৈয়ব। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা চালু করা নিয়ে আপনার কোনো মতামত আছে কি?

আলী হাসান তৈয়ব : সাংবাদিকতা একটি জরুরি ও অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা চালু করার চেয়ে মাদরাসা-শিক্ষার্থীদের সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুযোগ প্রদান করাটা জরুরি। একজন মাদরাসা-শিক্ষার্থী যদি মাদরাসার পড়াশুনা শেষ করার পর যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় তাহলে সে তার পছন্দ মতো বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারবে। তার মেধা থেকেও দেশ ও সমাজ বিপুল উপকৃত হতে পারে। তাছাড়া রাষ্ট্রেরও মৌলিক কর্তব্য, দেশের সব জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সব ব্যবস্থা ও সুযোগ অবারিত করা।

ইসলাম ও মিডিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে কিছু বলুন?

আলী হাসান তৈয়ব : রাসূল (সা.) বলেছেন, দীন হলো কল্যাণকামিতা। কল্যাণের বিস্তার ও অকল্যাণের প্রতিরোধই মিডিয়ার লক্ষ্য। যে মিডিয়া এ ভূমিকা পালন করে ইসলাম তাকে পূর্ণ সমর্থন করে। বরং উৎসাহ যোগায়। দ্বিতীয়ত, ইসলাম তাবলিগনির্ভর ধর্ম। আর তাবলিগ মানে পৌঁছানো। মিডিয়ার কাজও তথ্য পৌঁছানো। তাই তাবলিগ ও দাওয়াতে আধুনিক মিডিয়া কাজে লাগানো সময়ের দাবি। নবী (সা.) তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় মিডিয়া হাট-বাজার ও পাহাড়কে বেছে নিয়েছিলেন দাওয়াত তুলে ধরতে। বর্তমানের মিডিয়া তারই পরবর্তীত রূপ। তাই মিডিয়াকে দীনের প্রচারে কাজে লাগানো সময়ের অন্যতম ফরজ বলে মনে করি। ইসলাম মিডিয়ার সহায়ক। মিডিয়াও ইসলামের সহায়ক। ইসলামপন্থীরা মিডিয়াকে গুরুত্ব না দেয়ায় আর মিডিয়ার লোকেরা ইসলামপন্থীদের সঙ্গে না উঠাবসা করায় পরস্পর সহায়ক দুই শক্তি একে অপরের বিরোধিতায় লিপ্ত। এটা বড় দুঃখজনক। আমরা যারা মিডিয়ায় সামান্য পদচারণা করছি, আমার মতে এ দূরত্ব ঘুচানো দরকার আমাদের।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?

আলী হাসান তৈয়ব : সাধারণভাবে বললে, বলা ও লেখার শক্তিকে ইসলামের জন্য ব্যাপকতর উপায়ে কাজে লাগানো। বিশেষভাবে বললে, যারা মিডিয়ায় এসেছেন তাদেরকে কুরআন-সুন্নাহনির্ভর লেখালেখিতে অভ্যস্ত করা এবং যারা কুরআন-সুন্নাহর গবেষক তাদেরকে লেখালেখিতে আনতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ।